Home বিনোদন ৩০ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ১৪তম আর্ন্তজাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব

৩০ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ১৪তম আর্ন্তজাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব

202

‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামী স্বপ্ন’ স্লোগানে প্রতি বছরের মতো এবারো চিলড্রেন’স্ ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ আয়োজন করতে যাচ্ছে ১৪তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ ২০২১। আগামী ৩০ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এই উৎসব। উৎসবটির বিস্তারিত তথ্য জানাতে ২৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার ধানমন্ডির আলিয়ঁস্ ফ্রঁসেজে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উৎসবের সব তথ্য লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন উৎসব পরিচালক ফারিহা জান্নাত মিম। সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হন চিলড্রেন’স্ ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ এর সভাপতি ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও উপদেষ্টা ইয়াসমিন হক।

এসময় ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, প্রতিষ্ঠার পর ভেবেছিলাম আমাদের দেশের শিশু- কিশোরদের চলচ্চিত্র দেখাবো কিন্তু ধীরেধীরে এর দায়িত্ব শিশু- কিশোররা নিয়ে নেয়, এখন সেটা তারাই পরিচালনা করছে। এই চলচ্চিত্র উৎসবের চেয়ে বড় কোনো শিশু চলচ্চিত্র উৎসব আরও আছে কিনা আমার জানা নেই। চলচ্চিত্র সুন্দর একটি মাধ্যম, শিশুদের যতোই দেখানো হবে ততোই ভালো ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন উৎসবটির সহ-পরিচালক রওনক জাহান রাফা, আয়োজক কমিটির নির্বাহী সদস্য আবীর ফেরদৌস মুখর, অনুষ্ঠান সম্পাদক রায়ীদ মোরশেদ মনন ও আলিয়ঁস্ ফ্রসেঁজের পরিচালক অলিভিয়া দঁতজে।

এবারের উৎসবে ঢাকার মোট ৩টি ভেন্যুতে ৩৭টি দেশের ১৭৯টি শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরদিন থেকে শাহবাগের কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরীর শওকত ওসমান মিলনায়তনে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকাল ১১টা, দুপুর ২টা, বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা ৬টায় মোট ৪ বার চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

প্রতিটি প্রদর্শনীতে একাধিক শিশুতোষ চলচ্চিত্র দেখানো হবে। উৎসবের সকল প্রদর্শনী অভিভাবক, শিশু-কিশোরসহ সবার জন্য উন্মুক্ত। সিনেমা দেখার জন্য কোনো ধরনের প্রবেশমূল্য না থাকলেও এ বছর মাস্ক পরিধানকে চলচ্চিত্র উৎসবের টিকেট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পুরো উৎসবটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রদত্ত স্বাস্থ্য বিধি মেনে পরিচালনা করা হবে।

উৎসবটির অন্যতম আকর্ষণীয় বিভাগ হিসেবে থাকছে বাংলাদেশী শিশুদের নির্মিত প্রতিযোগিতা বিভাগ। এই বিভাগে ৬১টি চলচ্চিত্রের মধ্যে, নির্বাচিত ১৯টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে, এই ১৯টি চলচ্চিত্রের ৫টি চলচ্চিত্র পুরষ্কার পাবে। পুরষ্কারের জন্য গঠিত ৫ সদস্যের জুরি বোর্ডের সবাই শিশু-কিশোর। অর্থাৎ ছোটদের নির্মিত শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলো বাছাই করবে ছোটরাই। ‘ইয়ং বাংলাদেশী ট্যালেন্ট’ শীর্ষক বিভাগে ১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ নির্মাতারা অংশ নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে রয়েছে ‘মুক্তির চলচ্চিত্র’ শিরোনামে বিশেষ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বিভাগ। একই সাথে রয়েছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগ, এ বিভাগে জমা পড়েছিলো ৮১টি দেশের ১১১৬টি চলচ্চিত্র, যার মধ্যে উৎসব কমিটির দ্বারা প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশসহ অন্যান্য ৩৭টি দেশের মোট ১১৬টি চলচ্চিত্র।

গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বিভিন্ন দেশের শিশুদের বানানো চলচ্চিত্র নিয়ে থাকছে প্রতিযোগিতা বিভাগ, যেখান থেকে একটি চলচ্চিত্রকে পুরষ্কার দেয়া হবে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন একটি সামাজিক চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা বিভাগ রাখা হয়েছে ‘নিউ নরমাল’ শিরোনামে। উৎসবে প্রতিনিধিদের জন্য বিভিন্ন কর্মশালা ও সেমিনার এর আয়োজন করা হয়েছে, এবার মোট ৪টি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে, ডিরেকশন ও সিনেমাটোগ্রাফির উপর কর্মশালা নিবেন অমিতাভ রেজা চৌধুরী ও তাহসিন রহমান, স্ক্রিপ্টরাইটিং এর উপর কর্মশালা নিবেন সাদিয়া খালিদ রীতি, প্রোডাকশন ডিজাইন এর উপর কর্মশালা নিবেন রঞ্জন রাব্বানী, ফেস্টিভ্যাল সার্কিট সম্পর্কে কর্মশালা নিবেন আবু শাহেদ ইমন। এছাড়া শিশু- তরুণ প্রতিনিধিদের সাথে অন্তরঙ্গ আড্ডায় উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযোদ্ধা লেফটেনেন্ট র্কনেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীর প্রতীক, মোঃ মাশরুকুল হক এবং মারুফা মাশরুক। সেলিব্রেটি আড্ডায় থাকছেন প্রথম বাংলাদেশী নারী এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার। এছাড়া থাকছেন সংগীতশিল্পী সায়ান চৌধুরী অর্ণব ও সুনিধি নায়েক।

উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হবে ৩০ জানুয়ারি, শনিবার, বিকেল ৪টায় শাহবাগের কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি চত্বর ও শওকত ওসমান মিলনায়তনে। উৎসবটির উদ্বোধন করবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় তথ্যমন্ত্রী জনাব ড. হাছান মাহমুদ, এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী জনাব কে এম খালিদ, এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন চিলড্রেন’স্ ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও স্বনামধন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম।

-নিজস্ব প্রতিবেদক