Home বাংলাদেশ বায়ান্ন, একাত্তরের চেতনা ছিল বলেই বাধা পেরিয়ে শিশুরা আয়োজন সফল করতে পেরেছে...

বায়ান্ন, একাত্তরের চেতনা ছিল বলেই বাধা পেরিয়ে শিশুরা আয়োজন সফল করতে পেরেছে : পলক

158

‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামী স্বপ্ন’ স্লোগানে চিলড্রেন’স ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ এর আয়োজনে ৩০ জানুয়ারি শনিবার থেকে শুরু হয়েছিল ৭ দিন ব্যাপী ১৪তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ ২০২১, উৎসবটির শেষ দিন ৫ ফেব্রæয়ারি শুক্রবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে চলচ্চিত্র দেখতে ভিড় করেন শিশু- কিশোর ও বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীরা, বিনামূল্যে উপভোগ করেন বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র। উৎসবে সিনেমা দেখার জন্য কোনো ধরনের প্রবেশমূল্য না থাকলেও এ বছর করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর কারণে মাস্ক পরিধানকে চলচ্চিত্র উৎসবের টিকেট হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।

বিকাল ৫টায় উৎসবের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উৎসব পরিচালক ফারিহা জান্নাত মিম, আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির নির্বাহী সদস্য আবীর ফেরদৌস মুখর। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মসিহউদ্দিন শাকের, সাদিয়া খালিদ রীতি, আরিফুর রহমান, শতাব্দী ওয়াদুদ, প্রসূন রহমান, আকরাম খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘সবার উচিৎ শিশুদের মাঝে চলচ্চিত্রের চর্চাকে জাগ্রত করা, শিশুদের মাঝে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের চেতনা, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আছে বলেই করোনা ভাইরাসের দূর্যোগের মাঝেও বাধা পেরিয়ে এই চলচ্চিত্র উৎসব সফল ভাবে আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছে। এই আয়োজন আগামী বছর সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে সরকারিভাবে ৫০ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিয়াকত আলী লাকী বলেন ‘ আমার কর্ম জীবনে শিশুদের এমন দক্ষ আয়োজন আর কোথাও দেখিনি, যেটা ১৪তম আর্ন্তজাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবে এসে দেখলাম। পরে আমন্ত্রিত অতিথিরা সেরা ক্ষুদে নির্মাতাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

পুরস্কারের ক্যাটাগরি :
বাংলাদেশী শিশু নির্মাতাদের নির্মিত প্রতিযোগিতা বিভাগে ৫টি পুরস্কার,
১. টেনোর, ২. ত্রিকোণমিতি, ৩. ঠোঙা ৪. পুপেট্রি, ৫ . এন ইন্টারভিউ অফ এ মারিওনেট্টি

তরুণ বাংলাদেশী নির্মাতাদের বিভাগে ২ টি পুরস্কার,
১. মাটি এবং বিশেষ পুরষ্কার পেয়েছে ২. লটারি

সামাজিক চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা বিভাগে ১ টি পুরস্কার,
এ নিউ নর্মাল

আর্ন্তজাতিক শিশু নির্মাতাদের বিভাগে ১ টি পুরস্কার,
– (তুর্কি)

আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে ১ টি পুরস্কার,
জেকি এন্ড ওওপজেন (নেদারল্যন্ড)

আন্তর্জাতিক শর্ট ফিল্ম বিভাগে ১টি পুরস্কার,
আন্ডার দ্যা স্টরক’স নেস্ট (আর্মানিয়া)

আর্ন্তাজাতিক বিভাগের সেরা নির্মাতার পুরস্কার পেয়েছেন,
চলচ্চিত্র নির্মাতা : আনি ওগানেস্যান । চলচ্চিত্র : আন্ডার দ্যা স্টরক’স নেস্ট (আর্মানিয়া)।

এবারের উৎসবে ঢাকার মোট ৩টি ভেন্যুতে ৩৭টি দেশের ১৭৯টি শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। শাহবাগের কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরীর শওকত ওসমান মিলনায়তনে ২ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত। জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ৫ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত সকাল ১১টা, দুপুর ২টা, বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা ৬টায় মোট ৪ বার চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। প্রতিটি প্রদর্শনীতে একাধিক শিশুতোষ চলচ্চিত্র দেখানো হয়েছে। উৎসবটির অন্যতম আকর্ষণীয় বিভাগ হিসেবে ছিল বাংলাদেশী শিশুদের নির্মিত প্রতিযোগিতা বিভাগ। এই বিভাগে ৬১টি চলচ্চিত্রের মধ্যে, নির্বাচিত ১৯টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে, এই ১৯টি চলচ্চিত্রের ৫টি চলচ্চিত্র পুরষ্কার পেয়েছে। পুরষ্কারের জন্য গঠিত ৫ সদস্যের জুরি বোর্ডে ছিল সবাই শিশু-কিশোর। অর্থাৎ ছোটদের নির্মিত শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলো বাছাই করেছে ছোটরাই। ‘ইয়ং বাংলাদেশী ট্যালেন্ট’ শীর্ষক বিভাগে ১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ নির্মাতারা অংশ নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে ছিল ‘মুক্তির চলচ্চিত্র’ শিরোনামে বিশেষ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বিভাগ। একই সাথে ছিল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগ, এ বিভাগে জমা পড়েছিলো ৮১টি দেশের ১১১৬টি চলচ্চিত্র, যার মধ্যে উৎসব কমিটির দ্বারা প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশসহ অন্যান্য ৩৭টি দেশের মোট ১১৬টি চলচ্চিত্র। গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বিভিন্ন দেশের শিশুদের বানানো চলচ্চিত্র নিয়ে ছিল প্রতিযোগিতা বিভাগ, যেখান থেকে একটি চলচ্চিত্রকে পুরষ্কার দেয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন একটি সামাজিক চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা বিভাগ রাখা হয়েছিল ‘নিউ নরমাল’ শিরোনামে। উৎসবে প্রতিনিধিদের জন্য বিভিন্ন কর্মশালা ও সেমিনার এর আয়োজন করা হয়েছিল এবার মোট ৪টি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এবারের উৎসবটি ৩০ জানুয়ারি শনিবার উদ্বোধন করেছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, এমপি।

-মোশারফ হোসাইন